প্রচ্ছদ > বিনোদন >

নির্বাচনে না লড়েও পার্লামেন্টের পথে কোয়েল মল্লিক

article-img

সাধারণ নির্বাচনের মতো জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাওয়ার বালাই নেই, অথচ নায়িকা পৌঁছে যাবেন সংসদের উচ্চকক্ষে। ঠিক কী সেই অঙ্ক? যেভাবে একজন প্রার্থী সরাসরি লড়াই না করেও সংসদ সদস্য হতে পারেন? এবার হয়তো দেখা যাবে সেই সংসদের উচ্চকক্ষে টালিউডের ‘পাওয়ার হাউস’ অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে।

রাজনীতির ময়দানে কোয়েল বরাবরই দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন। কিন্তু এবার তৃণমূল কংগ্রেস তাকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করল। বিরাট অঘটন না ঘটলে আগামী ১৬ মার্চ রাজ্যসভার নির্বাচন। সেদিনই কোয়েল সংসদ সদস্য হবেন। দেশের মোট ১০ রাজ্যের ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসন। বিধায়কদের সংখ্যার নিরিখে চারটি আসনে ঘাসফুল এবং একটিতে পদ্মশিবিরের জয় নিশ্চিত।

রাজ্যসভা হলো— সংসদের স্থায়ী কক্ষ। এখানে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোট দেন না। বরং আমরা যে বিধায়কদের বিধানসভায় পাঠাই, তারাই ভোট দিয়ে রাজ্যসভার সদস্যদের নির্বাচিত করেন। তাই তৃণমূলের যেহেতু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, সেহেতু তারা যাকে প্রার্থী করবে, তার জয় কার্যত নিশ্চিত।

রাজ্যসভার আসন খালি হলে প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের শক্তির ভিত্তিতে প্রার্থী ঠিক করে থাকে। তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা যা, তাতে কোয়েলকে প্রার্থী করলে তার জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ‘প্রথম পছন্দের ভোট’ পেতে কোনো সমস্যাই হবে না। এবারের রাজ্যসভা নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে জয়ী করতে ৫০ জন বিধায়কের প্রথম পছন্দের ভোট পেতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা বর্তমানে ২২৩ জন। ফলে অনায়াসে চারজন প্রার্থীর জয় পাকা।

আর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মানেই জয়। যদি দেখা যায়, খালি হওয়া আসনের সংখ্যার সমান প্রার্থীই দাঁড়িয়েছেন, তবে আর ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়ে না। সে ক্ষেত্রে কোয়েল মনোনয়নপত্র জমা দিলেই তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা হতে পারেন। এ মুহূর্তে তৃণমূলের চারটি আসন নিশ্চিত রাজ্য়সভায়।

রাজ্যসভা নির্বাচনে বিধায়কদের দেখাতে হয় তারা কাকে ভোট দিচ্ছেন। ফলে দলীয় হুইপ অমান্য করে ক্রস ভোটিংয়ের সম্ভাবনা খুব কম থাকে। শাসক দল মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কোয়েলের পার্লামেন্টে যাওয়া, তাই নিছক সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে ওয়াকিফহাল মহল। আর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, টালিউডে প্রশ্নহীন জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক কোনো বিতর্কে না থাকা— এসব গুণই কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভার আদর্শ প্রার্থী করে তুলেছে।

আগামী ১৬ মার্চ রাজ্যসভা নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছে। ৫ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। পর দিন সেই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। ৯ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ। যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকে, তাহলেই ১৬ মার্চ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রক্রিয়া শেষ হলেই শুরু হবে গগণা। ২০ মার্চের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। 

এবার কোনো রকম ডামি প্রার্থী না দিয়ে চারজন প্রার্থীকেই টিকিট দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির তরফে আগের দুই সংসদ সদস্যদের মনোনয়নের সময় একজন করে ‘ডামি’ প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। পদ্মশিবির ডামি প্রার্থী দিলে, মূল প্রার্থীর মনোনয়ন গৃহীত হওয়ার পর ডামি প্রার্থী মনোনয়ন যদি মনোনয়ন না তুলে নেন, অথবা কোনো নির্দলীয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং সেটি গৃহীত হয়। তা হলেই একমাত্র নির্বাচন  হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গে শেষ রাজ্য়সভার ভোট হয়। এরপর পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যসভার আর ভোট হয়নি। ২০২০ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন সাবেক বিধায়ক দীনেশ বজাজ। তার মনোনয়নপত্রে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের সই ও সিল না থাকায় রিটার্নিং অফিসার বাতিল করে দেন ওই নমিনেশন। শেষ পর্যন্ত ভোটে না লড়েই তৃণমূলের চার প্রার্থী রাজ্যসভা ভোটে জিতেছিলেন।

এ মুহূর্তে রাজ্য়সভায় তৃণমূলের তিন সদস্য় রয়েছেন। তারা হলেন— তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, সমাজকর্মী সাকেত গোখলে এবং তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ২ এপ্রিল তাদের কার্যকাল শেষ হচ্ছে। মৌসম নূরও তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি মাস কয়েক আগে কংগ্রেসে ফিরেছেন, তাই তার আসনটি আপতত শূন্য।